
বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগে নূর ইসলাম বাবু নামে এক এস্কেভেটর মালিককে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আটকপাট সংলগ্ন বাদেমাজু বিনোদপুর মাঠে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়রা জানান, বাদেমাজু গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তার কৃষিজমিতে পুকুর খননের জন্য একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে বাবু ওরফে নূর ইসলামের সঙ্গে চুক্তি করেন। পুকুর খননের সুযোগে নূর ইসলাম এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে গভীরভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করতে থাকেন। এতে শুধু জমির উর্বরতাই হুমকিতে পড়ে না, বরং অতিরিক্ত গভীরতার কারণে পাশের জমিগুলোরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করেন এবং এস্কেভেটরসহ নূর ইসলাম বাবুকে আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪ ধারার অপরাধে ১৫ ধারায় তাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহকারী কমিশনার ভূমি আশীষ কুমার বসু বলেন, “কৃষিজমির মাটি কাটার মতো অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অবৈধভাবে মাটি কাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযানে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমিতে নির্বিচারে মাটি কাটার প্রক্রিয়া এলাকায় নতুন নয়। তবে প্রশাসনের এ ধরনের তৎপরতায় কৃষিজমি রক্ষায় সচেতনতা বাড়বে এবং ইটভাটা-ভিত্তিক মাটি ব্যবসায়ীরা শাস্তির ভয়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত মাটি কাটলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি জমির মালিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। আলমডাঙ্গায় পরিচালিত সাম্প্রতিক এ অভিযান স্থানীয় কৃষিজমি রক্ষায় নতুন উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সকলে।



Discussion about this post