
শিরুল আলম,আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে:- চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর এলাকায় গভীর রাতে একটি চায়ের দোকানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে শওকত আলীর চায়ের দোকানের চালার ওপর ককটেল সদৃশ একটি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হলে মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেশবপুর এলাকার ওই চায়ের দোকানে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা দোকানের চালার ওপর প্লাস্টিকের কৌটায় তৈরি ককটেল সদৃশ একটি বস্তু ছুড়ে মারে। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে দোকানে থাকা লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গভীর রাতে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন ঘটনায় তারা ভীত ও উদ্বিগ্ন। ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এবং ওসমানপুর–প্রাগপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিস্ফোরিত বস্তুটির আলামত সংগ্রহ করেন এবং আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনা। এলাকায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পটকা জাতীয় কোনো বস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।



Discussion about this post