প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২, ২০২৬, ১০:১১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ মামা–ভাগ্নে উৎকণ্ঠায় চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার দুই পরিবার

বশিরুল আলম,আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:- উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথই এখন হয়ে উঠেছে ভয়ংকর অনিশ্চয়তার নাম। লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে যাত্রাকালে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার কালুপোল গ্রামের মিঠুন হোসেন (২৯) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের খাসবাগুন্দা গ্রামের সাঈদ মিয়া (২২)। সম্পর্কে তাঁরা মামা–ভাগ্নে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় দুই পরিবারে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।নিখোঁজ মিঠুন হোসেন কালুপোল গ্রামের ইসাহক আলীর ছেলে এবং সাঈদ মিয়া খাসবাগুন্দা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের গতিপথ বদলানোর আশায় প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁরা দেশ ছাড়েন লিবিয়ার উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। স্বজনদের অভিযোগ, কুষ্টিয়ার ইবি থানাধীন ঝাউদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তাঁদের লিবিয়া নিয়ে যান। পরে তিনিই তাঁদেরকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ সাগরপথে ইতালি যাওয়ার যাত্রায় যুক্ত করেন। যাত্রার এক পর্যায়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকায় ওঠার পর সর্বশেষ যোগাযোগ হয় মিঠুন ও সাঈদের সঙ্গে। নৌকা থেকেই পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজ পাওয়া যায় প্রায় ১৩ দিন আগে। এরপর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভয়েস মেসেজে উত্তাল সাগরের পরিস্থিতি, নৌকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং যাত্রীদের চরম আতঙ্কের চিত্র উঠে আসে। প্রাণ বাঁচানোর আকুতি ভরা সেই কণ্ঠস্বর শোনার পর থেকেই স্বজনদের মনে অজানা শঙ্কা বাসা বাঁধে। এরপর এক দিন, দুই দিন—কেটে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ, কিন্তু কোনো সুখবর আসেনি।চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার দুই বাড়িতেই এখন নীরবতা আর অপেক্ষার ভার। প্রতিদিন নতুন করে আশঙ্কা নিয়ে কাটছে সময়। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারগুলো বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিচ্ছেন, পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কিন্তু এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।এই ঘটনা আবারও অবৈধভাবে ইউরোপগামী সাগরপথের ভয়াবহ ঝুঁকির দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে। জীবনের উন্নতির স্বপ্ন অনেক তরুণকে এই অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে এক মুহূর্তেই সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিঠুন ও সাঈদের পরিবারের মতো আরও কত পরিবার যে এমন অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তার হিসাব নেই।দুই পরিবারের একটাই প্রার্থনা—অন্তত কোনো খবর আসুক, জীবিত না হোক, অনিশ্চয়তার এই দীর্ঘ অন্ধকার যেন শেষ হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রুহুল আমিন রতন | মোবাঃ ০১৯১৫-০৯১৫২৯ , ০১৮৫৮-৩১০৮৩৫
© সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত !! Email: [email protected]