
আল আমিন, নাটোর প্রতিনিধি :- নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের তিনমাস না পেরুতেই আদরী খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার কুজাইল গ্রামের নিজ শশুর বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আদরী ওই এলাকার লোকমানের ছেলে মো. মাহিমের স্ত্রী এবং একই উপজেলার তালশো মাঝপাড়া গ্রামের দিনমজুর ছুমির উদ্দিনের মেয়ে । আদরীর মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চার বোনের মধ্যে আদরী ছিল তৃতীয়। আর্থিক সংকটের মধ্যেও দিনমজুর বাবা পারিবারিক ভাবে আদরীর বিয়ে দেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুকের দাবি না থাকলেও বিয়ের পর স্বর্ণালঙ্কারের দাবিতে আদরীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। দাবি পুরনের জন্য ছয় মাস সময় নেয় পরিবার । কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই আদরীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী মাহিম, শাশুড়ি ও ননদ। একপর্যায়ে নিজের দুর্দশার কথা পরিবারকে জানালে আদরীকে তার বাবার বাড়ি নিতে চাইলে স্বামীপক্ষ রাজি না হয়ে সময় বেঁধে দেয়। গরিব পিতার শেষ সম্বল একটি গরু বিক্রি করে স্বর্ণালংকার কেনার সিদ্ধান্ত হয় । তার আগেই যৌতুকের লোভে আদরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, নিহত আদরের পিতা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন, আদরীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Discussion about this post