
বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে:- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রাসেল মিয়া রাজু (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার তুরাগ থানাধীন উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আলমডাঙ্গা থানায় এনে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেফতারকৃত রাসেল মিয়া রাজু রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার শিবদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মকলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক বলে জানা গেছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় রাসেল মিয়া রাজুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত কথোপকথন ও ভিডিও কলে যোগাযোগ চলতে থাকে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিডিও কলের সময় গোপনে ওই তরুণীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন অভিযুক্ত। পরবর্তীতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পরিবার সম্মতি না দেওয়ায় ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই তরুণীর ভাই ও ভাবির কাছে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও পাঠান এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ভুক্তভোগীর কিছু ছবি প্রকাশ করার ঘটনাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এসআই নিয়ামুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে অভিযান পরিচালনা করে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা থেকে রাসেল মিয়া রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এমন অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সাহস করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



Discussion about this post