
মাহাবুর রহমান, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:- গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ইয়াবা বাণিজ্য যেন নীরব, কিন্তু সুসংগঠিত এক অপরাধ সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে। গোপন তথ্য আর দীর্ঘদিনের নজরদারি ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এই চক্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামে কাপাসিয়া থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পৃথক দুটি টার্গেটেড পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ সক্রিয় তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) গভীর রাত ১টা ৪০ মিনিটে কাপাসিয়া ইউনিয়নের জামিরারচর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা লেনদেনের ‘নীরব ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে মাদক বেচাকেনা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলমের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এসআই শরীফ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এমদাদুল হক এম্বু (৩৭) ও হৃদয় হাসান (২৬) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে এম্বুর কাছ থেকে ১৫ পিস এবং হৃদয়ের কাছ থেকে ৫ পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এই দুজন স্থানীয় পর্যায়ে ইয়াবা সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির দায়িত্বে ছিল। এর আগে, ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাড়ৈগাঁও এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায় এসআই মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি টিম। ওই অভিযানে হারুন খান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার টাকা। যা মাদক ব্যবসার তাৎক্ষণিক লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতরা কেউই বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তি নয়। তারা একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাঠপর্যায়ের সদস্য হিসেবে কাজ করে। এই চক্রের মূল সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদার করেছে। এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, “গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে এবং এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। বুধবার গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাপাসিয়ার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা বেচাকেনা চললেও এতদিন তা ছিল আড়ালে। পুলিশের এই অভিযানে সেই অন্ধকার জগতের পর্দা খানিকটা হলেও সরে এসেছে। তবে পুরো ইয়াবা চক্র ভেঙে ফেলতে হলে শুধু গ্রেফতার নয়, নেপথ্যের গডফাদারদেরও মুখোশ উন্মোচনের দাবি উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।



Discussion about this post