
বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে:- চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ৫নং গাংনী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বর্তমান অবস্থা যেন দীর্ঘদিনের অবহেলার নীরব সাক্ষী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা কেন্দ্রটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৫-৬৬ সালে আসমানখালী বাজার এলাকায় নির্মিত একসময়ের দৃষ্টিনন্দন ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে অফিস কক্ষের ভেতরে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়, যাতে ভিজে নষ্ট না হয়। এতে ভবনের ছাদ ও রডের ক্ষয় আরও দ্রুত বাড়ছে এবং ধসের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। গ্রীষ্মকালেও দুর্ভোগ কম নয়। অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে অনেক সময় ফ্যান চালানো যায় না। কোথাও কোথাও বাঁশের সঙ্গে ফ্যান বেঁধে চালাতে হচ্ছে। পানি জমে থাকা ও বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের কারণে শর্ট সার্কিট ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের আশঙ্কাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নাগরিক সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। বসার মতো পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেই সেবা নিতে হচ্ছে তাদের। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একেবারে পাশে অবস্থিত নান্দবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শতাধিক শিশু বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে কোমলমতি শিশুদের বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি ইমদাদুল হক জানান, ভবনটি অনেক পুরোনো। গত প্রায় দশ বছর ধরে বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। অফিসের কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। একাধিকবার সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নাগরিকদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, গাংনী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা নাগরিক সেবা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



Discussion about this post