
বশিরুল আলম,আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:- চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ যেন প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষকের ঘরে ফিরিয়ে আনছে স্বস্তি ও আশার আলো।উপজেলার গাংনী, হারদী, খাসকররা, ডাউকি, জামজামি ও আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন, পর্যাপ্ত সেচ এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় এ বছর ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম হলেও লাভ বেশি। অনেক কৃষক ধান কাটার পর পতিত জমিতে সরিষা আবাদ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। ফলে কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এ বছর সরিষার ফলন খুব ভালো হয়েছে। গাছে গাছে ফুল আর ফল এসেছে। যদি বাজারে দাম ভালো পাই, তাহলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।”কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আলমডাঙ্গা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ ফলন স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, “সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে, যা কৃষি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। আমরা কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখছি।”সরিষার বাম্পার ফলনে শুধু কৃষকরাই নন, উপকৃত হবেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তেলকল মালিকরাও। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন, যা আলমডাঙ্গাকে পরিণত করেছে এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্যপটে। কৃষি ও প্রকৃতির এই মেলবন্ধন যেন সম্ভাবনাময় আগামীরই বার্তা দিচ্ছে।



Discussion about this post