প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১০, ২০২৬, ২:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
গভীর রাতে শীতার্তদের দুয়ারে কম্বল হাতে ইউএনও পান্না আক্তার

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে: শৈত্যপ্রবাহের দাপুটে রাত। চারপাশে ঘন কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরছে। হিম ভেজা বাতাসে কাঁপছে শরীর। গভীর রাতে আলমডাঙ্গা যেন আরও নিস্তব্ধ হয়ে আসে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেই শীতের নির্মম কামড়ে কুঁকড়ে থাকে ছিন্নমূল মানুষ, রেললাইনের ধারে ঝুপড়ির বাসিন্দা, বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা। ঠিক এমন সময় অন্ধকার ভেদ করে আলোর মতো হাজির হন এক মানবিক প্রশাসক—আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ আলমডাঙ্গা উপজেলা বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কবলে। কয়েক দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে সহনশীলতার নিচে। সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে, সারাদিন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে জনপদ। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ—দিনমজুর, ভ্যানচালক, ছিন্নমূল পরিবার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। শীত যেন তাদের কাছে শুধুই একটি ঋতু নয়, বরং জীবনের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। সরকারি বরাদ্দের শীতবস্ত্র প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত, অথচ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও পান্না আক্তার। দিনের আলোয় আনুষ্ঠানিক কম্বল বিতরণ নয়, বরং গভীর রাতে, নিঃশব্দে তিনি হাজির হচ্ছেন শীতার্ত মানুষের দরজায় দরজায়। প্রায় প্রতিদিন রাতেই তাঁকে দেখা যাচ্ছে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকা, রেললাইনের পাশের ঝুপড়ি, ফুটপাত, হরিজন পল্লি ও বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে। কোথাও বাদ পড়ছে না কোনো অসহায় মানুষ। সঙ্গে প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য থাকলেও মূল কাজটি করছেন তিনি নিজেই। নিজ হাতে তুলে দিচ্ছেন কম্বল, কথা বলছেন শীতার্তদের সঙ্গে, খোঁজ নিচ্ছেন তাদের কষ্টের কথা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এভাবেই রাতের পর রাত ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। প্রচণ্ড শীত, ঘন কুয়াশা কিংবা ভেজা রাতের বাতাস—কোনো কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। হঠাৎ গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সামনে দেখে অনেকেই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। কেউ কেউ আবেগে কথা বলতেও ভুলে গেছেন।আলমডাঙ্গা রেললাইনের পাশের ঝুপড়ির বাসিন্দা বিধবা বৃদ্ধা শৈল বালা রাণী আবেগে কাঁপা গলায় বলেন,“এমন মায়াবি অফিসার তো জীবনে দেখি নাই। এত রাইতে, হাড় ফুটা করা শিতি আমার ঘরে আইছেল! আমি অবাক হইয়া গেছি গো। কথা কইতে পারি নাই।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউএনও পান্না আক্তারের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণের কাজই নয়, বরং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করছে। শীতের গভীর রাতে তাঁর এই নিঃশব্দ উপস্থিতি আলমডাঙ্গার শীতার্ত মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে উষ্ণতার এক অনন্য প্রতীক।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রুহুল আমিন রতন | মোবাঃ ০১৯১৫-০৯১৫২৯ , ০১৮৫৮-৩১০৮৩৫
© সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত !! Email: [email protected]