
বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে:- ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা কেড়ে নিল একটি জীবন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় থেমে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাসের সুপারভাইজার। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. তারেক (৪৫)। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত পূর্বাশা পরিবহনের বাসটির সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যাত্রীবোঝাই বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সিরাজদিখানের নিমতলা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে বাসের সামনের বাঁ পাশের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুপারভাইজার মো. তারেক। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকা পড়েন বহু যাত্রী। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ ও আতঙ্ক। খবর পেয়ে সিরাজদিখান ও শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের বের করতে বেগ পেতে হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সিনথিয়া নুর বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন মৃত ছিলেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে মীর শফিকুল ইসলাম নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলা বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মাথায় আঘাত পেলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি উদ্ধার করে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা বিকল যানবাহন, পর্যাপ্ত সতর্ক সংকেতের অভাব এবং যানবাহনের গতি—সব মিলিয়ে এ দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিদিনের যাত্রাপথ যেন ক্রমেই হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ।



Discussion about this post