
বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ছোটশলুয়ায় মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হিজলগাড়ী–ছোটশলুয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম শিমুল মিয়া (২৫)। তিনি তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আকুবার মিয়ার বড় ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শিমুল মিয়া মোটরসাইকেলযোগে হিজলগাড়ী বাজার থেকে ছোটশলুয়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ছোটশলুয়ার কাছে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেল ও একটি পাখিভ্যানের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। এতে ঘটনাস্থলেই শিমুলসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শিমুল মিয়ার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আহত তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,হিজলগাড়ী–ছোটশলুয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। সড়কটিতে কোনো স্পিডব্রেকার, ট্রাফিক সাইনবোর্ড কিংবা কার্যকর গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত সড়কটিতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। গতকাল রাত ১০টার দিকে নিহত শিমুল মিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। আজ শনিবার সকাল ১০টায় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একটি তরতাজা প্রাণের এভাবে ঝরে যাওয়া আবারও প্রশ্ন তুলছে—দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কবে কার্যকর হবে?



Discussion about this post