মোঃ ফজলুল কবির গামা, বিশেষ প্রতিনিধি:- মোছাঃ শিউলি বেগম, পিতা বদিয়ার আর বিশ্বাস, গ্রাম বড়বাড়ি বগুড়া, থানা- শৈলকুপা, জেলা ঝিনাইদহ ১১.০১.২০২৬ তারিখ (রবিবার) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন, গত ইং ০৮.০১.২০২৬ তারিখে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মোঃ কামরুজ্জামান, পিতা-আলী কদর, গ্রাম হাবিববুর কাজীপাড়া, থানা- শৈলকূপা, জেলা- ঝিনাইদহ তার বিষয়ে যে সকল বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে।
সংবাদ সম্মেলনে মোঃ কামরুজ্জামান বলেছিলেন যে, শিউলি ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন কোর্টে একটি মামলা করে যা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে শিউলি শৈলকূপা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যাহার জন্য তিনি তাহার পুত্র নাজমুল খন্দকারের সহিত শিউলির বিবাহ দেন। শিউলি বলেন, "আমার দায়ের করা মামলা যদি মিথ্যা হবে তাহলে অভিযোগের কারণে কেন খন্দকার নাজমুল আমাকে বিয়ে করবে?"
শিউলি জানান, মামলাটি তিনি দায়ের করেছেন ০২.০৫.২০২৫ ইং তারিখে, মামলাটির আদেশ সঠিক হওয়ার কারণে ০৫.০৫.২০২৫ ইং তারিখে তিনি তার সাথে কামরুজ্জামানের পুত্র খন্দকার নাজমুল এর বিবাহ দেয়। উল্লেখ্য যে, ৩০.০৮.২০২৫ ইং তারিখে উক্ত কামরুজ্জামান গং দের চাপে পড়িয়া শিউলি মামলাটি প্রত্যাহার করেন। এরপর থেকেই তার সাথে উক্ত কামরুজ্জামান গং গণ নির্যাতন শুরু করে যার চিহ্ন তার শরীরে আছে বলে তিনি জানান। এরপর ২৩.১১.২০২৫ ইং তারিখে উক্ত কামরুজ্জামান গং তার খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে প্রদান করে যাহার ফলে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। তিনি তিনদিন পর সুস্থ হলে উক্ত কামরুজ্জামান তাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ০২.১২.২০২৫ ইং তারিখে তাহাকে কাবিনের টাকা প্রদান না করিয়া পূর্ণ মুসলিম শরিয়াহ ব্যতিরেকে তাকে কাজী মোঃ আব্দুল করিম এর মাধ্যমে তালাক প্রদান করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
শিউলি আরো জানান, পরবর্তীতে তিনি ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে চলে আসলে ০৪.১২.২০২৫ তারিখ খন্দকার নাজমুল সময় দুপুর আনুমানিক ১২:৪৫ ঘটিকার সময় তার ঝিনাইদহ আরাপপুর ভাড়া বাসায় এসে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক তার নিজের ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের চেইন,একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট, জোরপূর্বক স্বর্ণের কানের দুল এবং একটি এইজ-২৪ মোবাইল এবং তার নিকট ফোনের বিক্রয়ের নগদ ৯৮ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি নাজমুলের পিতা কামরুজ্জামানকে এবং তার ভাই মাখনকে বিষয়গুলো তাইতো জানান। তারা কোনরকম গুরুত্ব প্রকাশ না করায় তিনি নাজমুল খন্দকারের নামে ঝিনাইদহ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি জানান, তার পিছনে তার কার্যকলাপ লক্ষ্যের জন্য লোক লাগানো ছিল। পরবর্তীতে তিনি একদিন আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকার সময় ঝিনাইদহ সদরাস্থ গিলাবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ভোজন বাড়ী নামক রেস্টুরেন্টে যায়। সেখান থেকে খাবার শেষ করিয়া রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরবর্তীতে হায়েস্ট সাদা রংয়ের গাড়ি এসে থামে এবং দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তির জোরপূর্বক তাকে গাড়ির ভিতরে তুলে নেয়। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্য করেন যে, গাড়ির ভিতরে নাজমুল বসে আছে এবং তাহার নির্দেশেই অজ্ঞাতব্যক্তিদয় তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে তার দাবি। পরবর্তীতে উঠতে ব্যক্তিরা তার চোখ এবং হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে উঠতে নাজমুল এবং অজ্ঞাত ব্যাক্তিগণ তাকে নৃশংসভাবে আগুনের ছ্যাকা প্রদান করতে থাকে। এছাড়াও উক্ত ব্যক্তিগণ তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ করতো স্থানে উপর্যুপরি আঘাত প্রদান করতে থাকে। তারপর তারা তাকে ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু লোকজন থাকায় তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়। তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন অজ্ঞাত পথচারীগণ তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া এবং মানবাধিকার সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি, ঝিনাদুর সদর থানায় উত্তর নাজমুল এবং সন্দেহ মূলক শওকত খন্দকার এবং অজ্ঞাতনামা আরো একজনের নামে গত ০৪.০১.২০২৬ ইং তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তার মামলার ভিত্তিতে ০৮.০১.২০২৫ তারিখে উত্তর নাজমুলের পিতা ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে তার নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্যবভুল একটি সংবাদ সম্মেলন করেন বলে তার দাবি। যাতে তার নামে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হয় যা তার বক্তব্যে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
নাজমুলের পিতা কামরুজ্জামানের অভিযোগগুলো হলো-১.শিউলি ইয়াবাতে আসক্ত, ২. সাংবাদিক জমজম এবং আরিফকে টাকা দিয়ে শিউলি কামরুজ্জামান দের কে হুমকি প্রদান করিয়েছেন। ৩. শিউলি অনেকের সাথে মিথ্যা ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে তাদের নিকট থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ৪. শিউলি পাঁচটি বিয়ে করেছে। ৫. শিউলির বয়স ৪০ বছর তার পুত্রের বয়স নাকি ২০। (শিউলি বেগম তার এবং নাজমুল খন্দকারের জাতীয় পরিচয় পত্র দেখিয়েছেন যাতে তার বয়স ৩৬ এবং নাজমুলের ৩১।) তার শেষ কথা হচ্ছে, সেতো তার পূর্বের স্বামী বিল্লালকে তালাক দিয়ে কামরুজ্জামানের সন্তানকে বিবাহ করেছে। তাহলে সে সমাজের চোখে খারাপ কিভাবে? শিউলি জানান, মূলত তার দাবি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা মামলার তদন্ত করা এবং অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রুহুল আমিন রতন | মোবাঃ ০১৯১৫-০৯১৫২৯ , ০১৮৫৮-৩১০৮৩৫