
আল আমিন, নাটোর প্রতিনিধি :- নাটোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাদ্দাম শাহ (৩১) নামের এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক সাদ্দাম শাহ নাটোর জেলার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার পুজা শাহের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। অভিযানের সময় সাদ্দাম শাহের কাছ থেকে প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রিক প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিত ও কৌশলী। পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন সংগ্রহ করে তা নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো। এতে পরীক্ষার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সাদ্দাম শাহ এই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন সংগ্রহ ও বিতরণের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষক প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বারবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তরুণ সমাজকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক ও কঠোর হতে হবে। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন,প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন ফাঁসসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নাটোরে এ ধরনের অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Discussion about this post