গাজীপুর প্রতিনিধি:: তৃণমূল মানুষের সেবার দীর্ঘ পথচলা থেকে উঠে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন। আপিল বিভাগে মনোনয়ন বৈধতা পাওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে তাঁর প্রত্যাবর্তনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গাজীপুর-৩ আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয়দের মতে, তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন—বরং জনগণের বলয় থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রিয় নেতা। সেই কারণে ভোটারদের কাছে তিনি এখন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তিনিই প্রথম ব্যক্তি—এ তথ্যও তাঁর প্রার্থীতাকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।
একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন। স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন—এই দীর্ঘ জনপ্রতিনিধিত্বের পথ পরিক্রমা শেষে এবার তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী মাঠের ‘পাকা খেলোয়াড়’ হিসেবে পরিচিত মিলনকে গাজীপুর-৩ আসনের প্রতিটি গ্রামের মানুষ চেনেন ও জানেন। ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর প্রতি রয়েছে গভীর জনসমর্থন। বড় পরিসরে এটিই তাঁর প্রথম সংসদ নির্বাচন হলেও, কঠিন এই লড়াইকে সহজভাবেই নিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অলিগলি, গ্রাম ও জনপদ ঘুরে সব শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সঙ্গে সভা-সমাবেশ করেছেন তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোটে বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তাঁর সমর্থকরা। শান্তিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন প্রত্যাশী ভোটারদের একটি বড় অংশ তাঁকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ইজাদুর রহমান মিলন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অসহায়দের ভাতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান—এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে সবসময় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফলে তাঁর রয়েছে শত শত শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, শ্রীপুর উপজেলা এবং গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর, পিরুজালী ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈধতা পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন বলেন, “গাজীপুর-৩ এলাকার সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমি নির্বাচনী যাত্রায় শামিল হতে পেরেছি। আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে একটি সুন্দর ও মানবিক দেশ গড়ে তুলি। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের স্বার্থকেই আমরা সবার ঊর্ধ্বে রাখি।”
এদিকে তাঁর প্রার্থীতা পুনর্বহালের খবরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই ধারণা, ইজাদুর রহমান মিলনের নির্বাচনী মাঠে ফেরায় গাজীপুর-৩ আসনের ভোটের সমীকরণ এবার দৃশ্যমানভাবেই বদলে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রুহুল আমিন রতন | মোবাঃ ০১৯১৫-০৯১৫২৯ , ০১৮৫৮-৩১০৮৩৫