
নিজস্ব প্রতিবেদ:- টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের উদ্যোগে একাদশ শ্রেণির নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া সংবর্ধনা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনমেলায় রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শাহ নওয়াজ দিলরুবা খান, সভাপতি, গভর্নিং বডি, টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ এবং অতিরিক্ত সচিব (পি.আর.এল), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মিয়া। বিশেষ অতিথি ও অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক প্রতিনিধি আনিসুর রহমান, দিবা শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ রাজু মাস্টারসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, গার্ডিয়ান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। পরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রেস্ট, মেডেল ও কাপ বিতরণ করা হয়। গাজীপুর জেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শাহ নওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল নয়, নম্রতা, আদব-কায়দা ও ভদ্রতা শিখতে হবে। সম্মান দিতে জানতে হবে, আবার সম্মান নিতে জানতে হবে। শিক্ষক, কর্মচারী থেকে শুরু করে আয়া, সহায়িকা, সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “তোমরা সবসময় সাহস রাখবে, বড় স্বপ্ন দেখবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে নিজেকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে হবে। বাজে কাজে জড়াবে না, অযথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপথগামী বন্ধুত্বে জড়াবে না। তা না হলে স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, সবই তোমাদের জন্য। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা তোমাদের দায়িত্ব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, শালীন আচরণ করা এসব শিক্ষা এখান থেকেই নিতে হবে।”
নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার পর সংসারের দায়িত্ব নিয়েও আমি পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ধীরে ধীরে বিএড, এলএলবি, পিএইচডি সম্পন্ন করে সরকারি চাকরিতে এসেছি। আমি যদি পারি, তোমরা পারবে না কেন?”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও স্বপ্নমুখী জীবনের পথে এগিয়ে নিতে এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়।



Discussion about this post