
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:- কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হকের বিরুদ্ধে অবসর গ্রহণের পরও অবৈধভাবে মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিহিংসামূলকভাবে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসর গ্রহণের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হক তা না করে কথিতভাবে একটি “রেক্টর” পদ সৃষ্টি করে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এতে করে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ দখল করে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিলাসবহুল আসবাবপত্র নির্মাণ করান, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও সরকারি আর্থিক বিধি-বিধানের পরিপন্থী। এছাড়াও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক এই অধ্যক্ষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথিপত্র—যার মধ্যে দাপ্তরিক রেজিস্টার, আর্থিক কাগজপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল রয়েছে—নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। ফলে মাদ্রাসার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম, দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি যোগাযোগ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি মাদ্রাসা ত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে মাদ্রাসা ছাড়ার পর তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দাখিল করে আসছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি একই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা (মামলা নং–১২৩৮) দায়ের করেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সাবেক এই অধ্যক্ষ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ওই সময়ে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি পূর্বে একটি চাঁদাবাজির মামলায় হাজতবাস করেছেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা ডিবি পুলিশ, গাজীপুরে তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যদিকে মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। অবসরোত্তর অনিয়ম, ক্ষমতা দখল, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং নথিপত্র আটকে রাখার অভিযোগ আড়াল করতেই আমাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।” এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ওঠা এতগুলো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্ত জরুরি। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



Discussion about this post