সাটুরিয়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে নদীর উপর অবৈধ বাঁধ অপসারণ

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০

সাটুরিয়া প্রতিনিধি:  ৭ ডিসেম্বর ২০২০

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালি নদী খনন চলছে। নদী খননের সুবিধার্থে গাজিখালি নদীতে সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের বাছট বৈলতলা গ্রামের নামক স্হানে নদী মাঝ খানে বাঁধ দিয়ে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে উপজেলার ১২ কিলোমিটার নদী পথ, বালিয়াটী ইউনিয়নের কয়েক কিলোমিটার চন্দ্রখালি খালের দুপারের কৃষক বেকাদায় পরেছেন। এ নদী খাল ঘেষে কৃষকরা বোরো বীজতলা রোপণ করেছে । কিন্তু বাঁধের কারণে সে বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে । আবার অনেক ক্ষেত থেকে পানি না নামায় বোরো ধানসহ অন্যান্য শস্য রোপণ করতে পারছে না কৃষকরা।

এ ব্যাপার সাটুরিয়া সদর ও বালিয়াটী ইউনিয়নের কৃষকরা বাঁধটি অপসারণের দাবীতে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বুধবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে বাঁধটি অপসারণের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে মৌখিক ভাবে বলে আসেন। আর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও কথা মত ঐ দিনই বিকেলেই বাঁধটি অপসারণ করেন। এতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো বীজতলা রক্ষা পেয়েছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম সাটুরিয়া উপজেলার বুকচিড়ে বয়ে যাওয়া গাজিখালী নদীর উপর অবৈধ বাঁধ অপরাসারণ করেছেন। এতে সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নদীর উৎস মুখ থেকে ১২ কিলোমিটার নদী পথ ছাড়াও বালিয়াটী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার কৃষকেরা উপকৃত হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়ার জাতীয় পদক প্রাপ্ত কৃষক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আ খ ম নূরুল হক বলেন, বাছট গ্রামের নদীর উপর এ বাঁধের কারনে শুধু সাটুরিয়া উপজেলা ছাড়াও ধামরাই উপজেলার এক অংশের কৃষকরা ক্ষতি গ্রস্ত হয়। বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাছাড়া বন্যার পানি নেমে গেলেও কোন কোন স্থানে অতিরিক্ত পানি জমে চলাচল মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটছে।অ বাঁধটি অপসারণ করায় হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বালিয়াটী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন বলেন, বাঁধটি সাটুরিয়ার অংশে দিলেও এর প্রভাব পড়ে আমার হাজিপুর, বাহ্রা ও বনমালিপুর গ্রামের শত শত কৃষকের। করোনা ও বন্যার কারনে কৃষকরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এ বাঁধটি আবার মরার উপর খরার ঘা ছিল। বাঁধটি অপসারণের ফলে কৃষকদের অনেক দিনের দাবী পূরণ হয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুল আলম বলেন, গাজিখালি নদীর উপর নদী খননকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবৈধ বাধঁটি অপসারণের জন্য লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তা সমাধান করে দিয়েছি। উপজেলার আরও কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারনে কৃষকরা ঠিকমত জমি চাষ করতে পারছেন না। এতে শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখা যাবে না। বাকী নদী ও খাল খননসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সামনে প্রকল্প চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবেও বলে জানান তিনি।