প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:  ২৪ডিসেম্বর ২০২০

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে নিয়ে দুই স্কুলছাত্রীর একজনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং আরেকজনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে ৩ জনকে আটক করে পুলিশে নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া হোসেন মন্ডল পাড়ার ইসলাম প্রামানিকের ছেলে জীবন প্রামানিক (২৮), ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার গুলপালদী মোল্লা বাড়ির মালেক মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লা ওরফে ভাঙা সোহেল (২৮) ও দৌলতদিয়া হোসেন মন্ডল পাড়ার মোহন মন্ডলের ছেলে ইউসুফ মন্ডল (২৭)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূএে জানা যায়, দৌলতদিয়ার একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ফরিদপুর শাপলা সেফহোম নামক সংস্থায় থেকে পড়াশোনা শুরু করে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনে গত ১১ ডিসেম্বর তারা দৌলতদিয়ায় পরিবারের কাছে আসে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে দুই বান্ধবী দৌলতদিয়া যৌনপল্লির জনৈক লেংড়ার দোকানে আচার কিনে ফেরার সময় টোকাই মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছলে ভেতর থেকে তাদের ডাক দেয়। সাড়া দিয়ে টোকাই মোল্লার বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পায় জীবন প্রামানিক, সোহেল ওরফে ভাঙা সোহেল ও ইউসুফ মন্ডল ছাড়া কেউ নেই। জীবন প্রামানিক ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ঝাপটে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল মোল্লা ও ইউসুফ মন্ডল অপর স্কুলছাত্রীকে ঝাপটে ধরে আরেক কক্ষে নিয়ে যায়। জীবন জোরপূর্বক ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলেও অপর কক্ষে আটকে রাখা আরেকজনকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এমনটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির গেটে তালা মেরে পুলিশে খবর দেয়। পরিবার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার এবং আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যা, মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তারা জামিনে এলাকায় রয়েছে। থানায় ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে এবং স্কুলছাত্রীদের ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।