সাটুরিয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছে কৃষক

প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

মো: মাসুদ রানা: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় দিগন্ত জুড়ে শীতের সবজির সমারোহ। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বি হয়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক। এখানকার কৃষকরা সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল। এই উপজেলার মানুষের প্রধান উৎপাদনকারী ফসল ছিল ধান, গম, পাট। বিগত কয়েক বছর এই উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ওই সব ফসল থেকে অনেক কৃষক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। উপজেলায় বর্তমানে কৃষক বিকল্প ফসল হিসাবে বেছে নিয়েছে সবজি চাষ। এরই মধ্যে উপজেলার সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে অনেক কৃষক। আর শাক-সবজি চাষাবাদের জন্যই মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা পরিচিতি লাভ করেছে। সাটুরিয়া উপজেলা কে সবজি গ্রাম বলা হয়ে থাকে। আর সবজি গ্রাম হিসাবে চিনতে কষ্ট হয়না আশে পাশের গ্রাম ও জেলা বাসীদের।

রাজধানী ঢাকা কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সরবরাহ করা হয় এখানে চাষ করার নানা নামের শাক-সবজি। এসব চাষ করেই দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক পরিবার ও স্বাবলম্বী হয়েছে। তাই নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে হলেও শাক-সবজি চাষ করছে মানুষ।

উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার খেতে ব্যস্ত কিষান-কিষানীরা। বন্যার কারণে শীতকালের সবজি চাষে বিলম্ব ঘটলে ও ইতিমধ্য শীতের সবজি বাজারে এসেছে। ৯ টি ইউনিয়নের মধো সব চেয়ে সবজি চাষ করা হয়েছে তিল্লী ইউনিয়নের।

উপজেলার সবজি চাষিরা জানান,তারা বরাবরই শাক-সবজির চাষ করে আসছেন। সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলো যদি তাদের চাষকৃত শাক-সবজি উৎপাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরো সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্ত কৃষক বীর মুক্তিযুদ্ধা আ খ ম নুরুল হক জানান,ধান, পাট, গম ও ভুট্টা চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে বেছে নিয়েছে। আমরা এখন সবজি চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছি। আমাদের উপজেলার সবজি এখন বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হচ্ছে। সবজির চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে বেগুন,ফুলকপি,বাঁধাকপি, মিষ্টি আলু,চাল কুমড়া, গাজর, দেশি লাউ ও মুলাসহ নানান জাতের সবজি চাষে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে চাষীরা।

উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের চরতিল্লী গ্রামের বেগুন চাষি মোঃ তুয়াব আলী ৩ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে কামলা,সার,বিষসহ তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১লক্ষ২০হাজার টাকা আর বিক্রয় হবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। একই গ্রামের বেগুন চাষি মোঃ মুক্তার আলী ২ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে কামলা,সার,বিষসহ তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আর বিক্রয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। একই গ্রামে মোঃ তুয়াব আলী ৪ বিঘা জমিতে ফুল কপি চাষ করেছেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে কামলা, সার,বিষসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা আর বিক্রয় হয়েছে ২ লক্ষ টাকা।

স্থানীয় পাইকার মোঃ ছানোয়ার হোসেন জানান প্রতিমণ বেগুন ২৫০থেকে ৩০০ টাকা দরে ক্রয় করছেন। এই আড়ৎ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মন বেগুন ঢাকা কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সবজি আবাদ হয় ১ হাজার ৬৬ হেক্টর। আর এ বছর উপজেলায় সবজির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮২ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ খলিলুর রহমান জানান,কৃষি বিভাগ থেকে সবজি চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা যেন সহজেই কীটনাশক,বীজ,সার ও উৎপাদন সহায়ক যন্ত্রপাতি পান সে জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন।