২০ বছর পর আগামীকাল চালু হতে যাচ্ছে আরিচাঘাটের ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:  ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নাব্যতা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় ২০ বছর পর ফের চালু হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের ফেরি চলাচল। বছর দুয়েক আগে এই নৌরুটে ফেরি চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে বছরখানেক চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়।

পদ্মা-যমুনার নাব্যতা সংকট ও দূরত্ব কমানোর জন্য ২০০১ সালের ২২ ফেরুয়ারি আরিচা থেকে পাটুরিয়া স্থানান্তর করা হয় ফেরি সার্ভিস। এরপর থেকে হাজারো মানুষের কর্ম চাঞ্চল্য শূন্য হয়ে পড়ে ঐতিহ্যবাহী আরিচা ফেরি ঘাট। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ফেরি চলাচল শুরু করা হবে বলে দাবি ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের।

আবার প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের উভয় ফেরিঘাট এলাকা। চালু হচ্ছে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের ফেরি চলাচল। এরই মধ্যে দুই পারের নতুন দুটি ফেরিঘাট নির্মাণসহ নদীর নাব্যতা সংকট রোধে ৫টি ড্রেজার দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে নদীতে চ্যানেল খননের কাজ। ফেরি ঘাট চালুর খবরে খুশি দুই প্রান্তের হাজারো মানুষ।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচলের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও কর্তৃপক্ষের এই প্রচেষ্টা কতটুকু সফলতা পাবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। এই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হলে চাপ কমবে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর। পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে পাবনা, ঈশ্বরদীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীদের।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, আগামীকাল বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল চালু করা হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঐতিহ্যবাহী আরিচা ফেরি ঘাট এলাকা বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে তৃভীয় বারের মতো ফেরি চলাচল শুরু করতে যমুনা নদীতে নতুন করে চ্যানেল তৈরিতে ১২ লাখ ঘন-মিটার বালু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া দুইপারের ঘাট নির্মাণসহ আনুসাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। প্রথমে দুই পারের দুটি ঘাট দিয়ে দুটি রো-রো ফেরির মাধ্যমে যানবাহনসহ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হবে। পরে প্রয়োজন হলে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি সঠিক নয়। এর আগে ডেজিং সক্ষমতা ভালো না থাকায় সকল উদ্যোগ নেওয়ার পরও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এখন বিআইডব্লিউটিএ এর ৪৫টি ড্রেজার রয়েছে যার মধ্যে ৫টি ড্রেজার নাব্যতা রোধে কাজ করছে। কাজেই এবার আর সমস্যা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।