সমস্যায় জরজরিত ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:  ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঘড়ির কাটায় সময় বেলা ১১টা। হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মুনীরা ইয়াসমীনের চেম্বারের সামনে অপেক্ষামাণ ৫/৬ রোগীর ভিড়। বাইরে রোগী থাকলেও চেম্বারের ভেতরে নেই ডাক্তার। ডাক্তারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা। কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ পায়নি দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা। চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে কিছু রোগী চলে গেলেও অধিকাংশ রোগী চিকিৎসকের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলোর সামনে। একই অবস্থা হাসপাতালের প্রায় অধিকাংশ চেম্বারের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দাবি সাধারণ রোগীদের। আর জনবল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি ২০১৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও সেই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অত্যান্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে চলছে। ৫০ শয্যার জনবল তো দূরের কথা ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর সিংহভাগ পদই এখানে শুন্য রয়েছে!

আবাসিক মেডিকেল অফিসারের বিপরিতে মেডিকেল অফিসার দিয়ে কাজ চলছে, সিনিয়র স্টাফ নার্স-১১ জনের মধ্যে আছে ৭ জন, স্বাস্থ্য সহকারী এ্যানেসথেসিষ্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, প্যাথলজিষ্ট, ডেন্টাল সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে মাত্র দুজন সেবিকা কর্মরত। তাঁরা হলেন হলেন মরিয়ম বেগম ও রাবেয়া সুলতানা। ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন চিকিৎসক থাকার কথা। আছেন মাত্র চারজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল। এ কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতালে কথা হয় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি দুই বছরের শিশু রিহান হোসেনের মা রিতু আক্তারের সঙ্গে।

তিনি বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রিহানকে এখানে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্টে তাকে নেবুলাইজার দিতে হয়। তখন ডাকতে গেলেও সেবিকাদের কাউকে পাওয়া যায় না। পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তি বলেন, সারা দিনে একবারের বেশি নার্সের দেখা পাওয়া যায় না। জানতে চাইলে সেবিকা রাবেয়া সুলতানা বলেন, দিন-রাত তাঁদের দুজনকে সেবা দিতে হয়। এরপর তিনি মা হতে চলেছেন। খুব বেশি ছোটাছুটি করতে পারেন না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৌমেন চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা নিয়োগ না দিলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। সেবিকা নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।