দৌলতপুর প্রেসক্লাবে তালা ঝুলানোর পর এবার জন প্রতিনিধিদের শাসালেন ইউএনও ইমরুল

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২১

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ১ এপ্রিল ২০২১

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ইউএনও’র চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের শাসানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুরু হওয়া মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা চলাকালীন সময় দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসান উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ডেকে এনে বিভিন্ন হাট-বাজার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গন্যমান্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করে এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে অর্থ আদায় করার প্রস্তাব তোলা হয় মাসিক সমন্বয় সভায়। সভায় ইউএনও’র বিভিন্ন বিষয়ে এসব চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও মোঃ ইমরুল হাসান মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম রাজাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এসময় ইউএনও রাগান্বিত অবস্থায় সামনে থাকা টেবিল চাপড়ানোর এক পর্যায়ে কয়েকটি চেয়ার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা ছেড়ে চলে যান।

চরকাটারী ইউপি চেয়ারম্যান বারেক মন্ডল জানান, করোনার ভ্যাক্সিন প্রদানের রেজিষ্ট্রেশন বাবদ টাকা উঠানো নিয়ে সমন্বয় কমিটির সভায় তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। শফিক চেয়ারম্যান টাকা-পয়সা নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ করায় এক পর্যায়ে সমন্বয় কমিটির সভা পণ্ড হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে চকমিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন সময়ে ইউএনও’র চাঁদাবাজি ও চেয়ারম্যানদের অবমাননা করে কথা বলার প্রতিবাদ করায় ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার টেবিল ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে সভা ছেড়ে চলে যান। এসময় তিনি উপজেলা সভায় উপস্থিত থাকা ইউপি চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘তোমরা আমাকে চিন না, আমি তোমাদের দেখে নিব’।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসানের মুঠোফোনে বার বার ফোন দিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদবাজির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর তিনদিন পর রাতের আধারে প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড সড়িয়ে ফেলা হয় এবং তালা ভেঙ্গে আসবাবপত্র, মেশিনারিজ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গায়েব করে ফেলা হয়।