সখীপুরে বোরো’র বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২১

পারভেজ ইসলাম:  ২ এপ্রিল ২০২১

চলতি মৌসুমে মাঠজুড়ে বোরো ফসলের ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে সুশোভিত বোরোর ক্ষেত দেখে মনে হবে এ যেন আবহমান বাংলার চিরাচরিত রূপ।

চোখ জুড়ানো দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। মাঠে মাঠে দোলা খাচ্ছে চলতি মৌসুমের বোরো ধান। কৃষকদের মনে দোলা দিচ্ছে অনাবিল আনন্দ।

স্থানীয় কৃষকরা প্রথম দফার ধানের নিড়ানির কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে মাঠজুড়ে চলছে দ্বিতীয় দফার নিড়ানি, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কাজ। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পানি সুবিধা ভালো থাকায় শঙ্কামুক্ত রয়েছেন কৃষকরা। তারা মাঠের ধানকে ঘিরে স্বপ্নের জাল বুনছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভা সহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৫টি ব্লকে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে ধানের সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৪০ মেট্রিকটন।

বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা জমির পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোগবালাই ও পোকামাকড় হতে ফসল রক্ষায় মাঠে মাঠে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠে মাঠে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বোরো ক্ষেত সবুজে ঢেকে আছে। যেদিকে চোখ যায় মাঠে শুধু ধানক্ষেত চোখে পড়ে। এরমধ্যে কোনো কোনো জমিতে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে।

সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ ও সার দেয়া সবই করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেইসঙ্গে ফলন ভালো করতে নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তারা তদারকিও করছেন।

উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমি কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে হাইব্রিড বীজ পেয়েছি।

এতে আমার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমাকে ধান চাষে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করছি। আর কয়েকদিন পর ধানের শীষ বের হবে। জমির দিকে তাকালে মন জুড়িয়ে যায়।

উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছর প্রায় ২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করছেন তিনি। সব জমির ফসলের পরিচর্যার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। এখন পর্যন্ত তেমন বড় ধরনের রোগবালাই দেখা যায়নি। বর্তমানে জমির অবস্থা খুবই ভালো। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে বাম্পার ফলনের আশা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো.সাজ্জাদুর রহমানের সাথে যোগায়োগ করা হলে তুনি বলেন, উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে তন্মধ্যে রোগবালাই পোকামাকড়ের আশংকা না থাকায় কৃষকের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য প্রনোদনার মাধ্যমে হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পরিচর্যা ও আবহাওয়া ভালো থাকায়, কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হওয়ায় চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নূরুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার প্রায় সব মাঠেই বোরো ধানের চাষ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ, চাহিদানুযায়ী কৃষি উপকরণ সরবরাহের কারণে অধিক আগ্রহের সঙ্গে কৃষকরা বোরো চাষ করেছেন।

এছাড়া ফলন ভালো রাখতে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হতে পারে।